NTRCA শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

শিক্ষক নিবন্ধন সার্কুলার অনুসারে প্রিলিমিনিয়ারী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। NTRCA Written Exam Preparation 2019. শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার লিখিত প্রস্তুতি নিয়ে কিছু সাজেশন ও টিপস, যা সবার জানা উচিত। শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার সাজেশন ও টিপস ফলো করে অতি সহজে নিবন্ধনের প্রিলি পাশ করতে পারবেন।

প্রিলিতে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতকরণ ও প্রেরণ পদ্ধতি অনুযায়ী পাঠাতে হবে।

শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি:

সময় কারো জন্যই থেমে থাকে না। তাই এখন লিখিত পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার সময়। এসময় একটু মনোযোগের সাথে ভালভাবে প্রস্তুতি নিলে লিখিত পরীক্ষায় ভাল করার সুযোগ রয়েছে। তবে দেরি না করে আপনার শতভাগ দিয়ে আজই শুরু করে দিন লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি।

লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে:

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ঐচ্ছিক বিষয়ের ওপর ১০০ নম্বরের তিন ঘণ্টার লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। স্কুল পর্যায়ের জন্য নবম-দশম শ্রেণির বইগুলো এবং কলেজ পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হলে অনার্স পর্যায়ের বইগুলো পড়া যায়। এছাড়া বাজারে বিভিন্ন প্রকাশনীর লিখিত পরীক্ষার সহায়ক অনেক বই পাওয়া যায়। তবে বিশ্বাসযোগ্যতার দিক থেকে আপনি দিকদর্শন প্রকাশনীর ‘বেসরকারি শিক্ষক/প্রভাষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষার সহায়িকা’ সিরিজের বই পড়তে পারেন। এতে স্বল্প সময়ে আপনি লিখিত পরীক্ষা সম্পর্কে ভাল একটি ধারণা পেয়ে যাবেন।

এ ছাড়া বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে সেখান থেকে ভাল একটা ধারণা পাওয়া যাবে। লিখিত পরীক্ষায় রচনামূলক প্রশ্ন থাকে পাঁচটি। প্রতিটি প্রশ্নের মান থাকে ১৫। সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকবে পাঁচটি। প্রতিটি প্রশ্নেরই বিকল্প প্রশ্ন থাকবে।

বাংলাঃ

স্কুল পর্যায়ের জন্য বাংলা অংশে ভালো করতে হলে ব্যাকরণে জোর দিতে হবে। ব্যাকরণের প্রায় প্রতিটি অধ্যায় থেকে এক থেকে দুটি প্রশ্ন আসে। এসব অধ্যায়গুলোর মধ্যে ভাষারীতি ও বিরাম চিহ্নের ব্যবহার, বাগধারা ও বাগবিধি, ভুল সংশোধন বা শুদ্ধকরণ, অনুবাদ, সন্ধিবিচ্ছেদ, কারক, বিভক্তি, সমাস ও প্রত্যয়, সমার্থক ও বিপরীতধর্মী শব্দ, বাক্য সংকোচন, লিঙ্গ পরিবর্তন অধ্যায়গুলো ভালোভাবে জানা থাকতে হবে।

আর কলেজ পর্যায়ের জন্য পড়তে হবে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যবইগুলো। এসব বইয়ের গদ্য ও পদ্যের লেখক পরিচিতি সম্পর্কে জানা থাকলে ভালো করা যাবে। বিগত বছরের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্নের সমাধান করলেও আপনার ভাল একটি অভিজ্ঞতা হবে।

ইংরেজিঃ

ইংরেজি বিষয়ে বেশি করে পড়তে হবে গ্রামারের খুঁটিনাটি। এ অংশে ভালো করতে হলে গ্রামার অংশকে গুরুত্ব দিতে হবে। ইংরেজির জন্যও আপনি একটি দিকদর্শন প্রকাশনীর ব্ই থেকে অনুশীলন করলে ভাল একটা ধারণ পেয়ে যাবেন। এখানে গ্রামারের ওপর সহজভাবে আলোকপাত করা আছে। গ্রামার অংশ থেকেই স্কুল ও কলেজ উভয় পর্যায়েই প্রশ্ন আসে। Completing Sentences, Translation from Bengali to English, Change of Parts of Speech, Right Forms of Verb, Fill in the Blanks with Appropriate Word, Transformation of Sentences, Synonyms and Antonyms, Idioms and Phrases, Article—এই অধ্যায়গুলোর ওপর ধারণা থাকতে হবে।

গণিতঃ

গণিতে ভালো করতে হলে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির বইগুলো বারবার চর্চা করতে হবে। পাটিগণিত থেকে লসাগু, গসাগু, ঐকিক নিয়ম, শতকরা, সুদকষা, লাভ-ক্ষতি, অনুপাত-সমানুপাত—এসব অধ্যায় ভালো করে চর্চা করলে প্রশ্ন পাওয়া যাবে। আর বীজগণিতের জন্য করতে হবে উৎপাদক, বর্গ ও ঘণ-সংবলিত সূত্রগুলো ও প্রয়োগ, গসাগু, সূচক, লগারিদম—এসব অধ্যায় থেকে প্রতিবছরই প্রশ্ন থাকে। জ্যামিতির জন্য রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, ক্ষেত্রফল ও বৃত্ত অধ্যায়গুলো আয়ত্তে রাখা দরকার। কলেজ পর্যায়ের জন্য পড়তে হবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বই। বিগত বছরগুলোর বিসিএস প্রশ্ন ও শিক্ষক নিবন্ধন প্রশ্নগুলো বারবার চর্চা করলেও ভালো করা যাবে। প্রতিটি উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে।

সাধারণ জ্ঞানঃ

এই বিষয়ে ২৫টি প্রশ্ন থাকবে। এ অংশে ভালো করতে হলে নিয়মিত পত্রিকা পড়া, দেশি-বিদেশি সমসাময়িক খবরগুলো নিজের আয়ত্তে করে নেওয়া। বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং রোগব্যাধি সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। বাংলাদেশ অংশে বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, জলবায়ু, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, বিভিন্ন জেলার আয়তন, অর্থনীতি প্রভৃতি সম্পর্কে অবগত থাকা। আর আন্তর্জাতিক অংশের জন্য বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, দিবস, পুরস্কার ও সম্মাননা, সাম্প্রতিক ঘটনা এসব থেকে দুই থেকে চারটি প্রশ্ন পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া বাজারে সাধারণ জ্ঞানের বিভিন্ন প্রকাশনীর বই পড়লেও ভালো করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে দিকদর্শন প্রকাশনীর লিখিত পরীক্ষা সহায়িকা বাজারে থেকে কিনে পড়ে নিতে পারেন। এটা আপনার পছন্দ।

এবার আসি মূল কথায়-
১। শিক্ষক নিবন্ধের লিখিত প্রস্তুতির জন্য আপনাকে প্রথমে যে কাজটি করতে হবে, বাজার থেকে নিবন্ধের লিখিত পরীক্ষার একটি গাইড বই কিনে নিন। তারপর সেই বই থেকে লিখিত পরীক্ষার বিগত সালের প্রশ্নগুলো কয়েকবার ভালো করে দেখুন। তখন আপনি নিজে বোঝতে পারবেন কী পড়বেন আর কি বাদ দিবেন।
আমি ১০ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়েছিলাম এবং আল্লাহর রহমতে পাশও করেছিলাম প্রথম বারেই।
.
২। তো বলছিলাম, আপনি যখন লিখিতভাবে পরীক্ষার প্রশ্নগুলো দেখবেন, তখন খেয়াল করবেন কিছু প্রশ্ন আছে এমন যা প্রায় প্রত্যেকবার পরীক্ষায় এসেছে। যেগুলো প্রথমে ভালোভাবে শেষ করুন।
৩। তারপর লিখিত পরীক্ষার বিগত সালের বাকি প্রশ্নগুলো সমাধান করুন।
আর এখানেই আপনার লিখিত পরীক্ষার ৬০-৮০% কাভার হয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

৪। এরপর বিগত সালের প্রশ্নের কাছাকাছি সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তরগুলো পড়ে ফেলুন।

শিক্ষক লিখিত পরীক্ষার জন্য সহায়ক বইঃ

বাজারে আসলে নিবন্ধন পরীক্ষার লিখিত এর জন্য তেমন ভালো বই নেই বলে আমার কাছে মনে হয়। তারপর দুই-তিনটি কোম্পানির বই আছে-
১। দিকদর্শন
২। Professors Book
৩। মিলিনিয়াম
এছাড়াও আরো কিছু কোম্পানির বই থাকতে পারে।
আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হচ্ছে এইসব বই থেকে আপনি প্রশ্নের Structured বুঝে অনার্স ও ইন্টারমেডিয়েট বই থেকে সেই প্রশ্নগুলো যতবেশি সলভ করবেন ততবেশি ভালো করবেন। কারণ এসব প্রচলিত বইয়ে অনেক ভুল থাকে ও তথ্যের ঘাটতি থাকে।

স্পেশাল টিপসঃ যেহেতু লিখিত ও ভাইভার ফলাফলের উপর আপনার মেরিট লিস্ট নির্ধারিত হবে, সেহেতু লিখিত পরীক্ষায় যত বেশি নাম্বার উঠানো যাবে ততই বেটার। সেক্ষেতে আপনি যা করবেন- যে প্রশ্নটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই প্রশ্নটি আপনার অনার্সের যে কার্সে ছিল, সেই কোর্সের মূল বই থেকে পড়ুন।

আর লিখিত পরীক্ষার যত বেশি মূল বইয়ের নাম রেফারেন্স হিসেবে দিতে পারবেন, তত বেশি নাম্বার। পাবেন। সেইজন্য অনার্সের কিছু মৌলিক বইয়ের নাম ভালোভাবে রপ্ত করে নিন, সুযোগ থাকলে সেইসব বই থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য/লাইন বইয়ের নামসহ উদ্ধৃতি দিতে পারলে বেশ ভালো নাম্বার পাবেন।
আপনার সাবজেক্টটের কোনো প্রশ্ন যদি সাম্প্রতিক রিপোর্ট-সমীক্ষার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে থাকে সেই ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও অন্যান্য রিপোর্ট থেকে ডেটা দেয়ার চেষ্টা করুন রেফেরেন্সসহ, এতে নাম্বার বেশি পাবেন।

- Advertisement -প্রাইমারি শিক্ষক পরীক্ষার প্রস্তুতি) এড হন