মা হাতিটি তিনদিন ধরে পানিতে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করছিল

    আনারসের মধ্যে বারুদ ঢুকিয়ে খাইয়ে দিয়ে হাতিকে হত্যা।  অন্তঃসত্ত্বা হাতি যন্ত্রনা সইতে না পেরে তিনদিন ধরে পানিতে দাঁড়িয়ে ছিলো। মানুষের এই নৃশংসতাকে কি বলে অভিহিত করা যায় বলুন।

    তিটির ময়নাতদন্ত করেন তখন তিনি জানান, “১৫ বছর বয়সী হাতিটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। ”
    কাঁপা গলায় আরও জানান,” যে হাতিটির মধ্যে একটা সিক্স সেন্স কাজ করেছিল। সে জানতো তার মৃত্যু আসন্ন। শুঁড় সহ গোটা শরীর রক্তময়, যন্ত্রণায় জ্বলছিল সারা দেহ। এই অবস্থায় সে তার সন্তানের কথা ভেবে চলে যায় নদীর মাঝে জলের মধ্যে যাতে সেই রক্তাক্ত জায়গায় পোকা-মাকড় না বসে। যতক্ষণ প্রাণ ছিল সে চেষ্টা করেছিল যাতে তার সন্তানের কষ্ট একটু হলেও যেন কম হয়। আর শেষ অবধি সে ওই মাঝ নদীতেই প্রাণ ত্যাগ করে।”

    ১৫ বছর বয়সী হাতিটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল

    হাতিটি অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে সারা গ্রাম ঘুরে ছুটাছুটি করেছে, কোথাও খাবার পায়নি। মানুষ তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলেও সে মানুষের কোন ক্ষতি করেনি। গ্রামের কারো কোন ক্ষতি করেনি। মাঝনদীতে গিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল। কোন চেষ্টা করেও তাকে সেখান থেকে সরানো যায়নি।

    আচ্ছা এরপরেও মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব কি করে হয়?? মানুষ এই পৃথিবী ডিজার্ভ করেনা। যে অন্যায়, যে অবিচার ক্রমশ মানুষ করে যাচ্ছে তার শাস্তি অবশ্যই পাবে। প্রকৃতি কারো ঋণ রাখে না। সৃষ্টিকর্তা সব সুদে আসলে ফিরত দিয়ে দিবে। আজ যে পৃথিবীর এই অবস্থা সেটার জন্যও মানুষই দায়ী। মানুষের বিনাশ অনিবার্য। মানুষের চেয়ে দ্বিতীয় ভয়ঙ্কর প্রাণী আর পৃথিবীতে নেই।
    – স্বর্ণা হাওলাদার তাহিন।