Home চাকরির প্রস্তুতি বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নসমুহ

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নসমুহ

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮! প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর পুরো ফুটবল বিশ্ব অসাধারণ সুন্দর এই খেলাটির জন্য অপেক্ষায় থাকে, যেখানে কিংবদন্তীরা নিজেদের ফুটবল শৈলী দিয়ে সকলের মনে আরো শক্তভাবে জায়গা করে নেয়।
বিদায় নিল রাশিয়া বিশ্বকাপ । সেই সাথে অপেক্ষা আগামী ৪ বছরের । অনেক জল্পনা-কল্পনা আর হিসাবের পাঠ চুকিয়ে বিশ্বকাপের ২১তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ফ্রান্স।
বিশ্বকাপের উন্মাদনা তোলা রইল চার বছরের জন্য। পুরো বিশ্ব ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর জ্বরের ঘোর কাটিয়ে উঠলেও, বিসিএস, ব্যাংক সহ সরকারি-বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বিশ্বকাপ আসবে ঘুরে ফিরে। রাশিয়া বিশ্বকাপের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় থেকে নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে আসতে পারে একাধিক প্রশ্ন।

রাশিয়া বিশ্বকাপের সম্পর্কে সকল তথ্যঃ

রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ, খেলোয়াড় থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামসহ কিছু বিস্তারিত তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো । নিচে সকল বিষয় জেনে নিন:-

বিশ্বকাপের স্বাগতিক শহর :

২০১৮ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো রাশিয়ার ১১টি শহরের ১২টি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে সমর্থকরা রাশিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত ঘুড়ে দেখারও সুযোগ পাচ্ছে।
লুজিনকি স্টেডিয়ামকে এবারের আসরের মূল ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এখানেই ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এখানকার দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৮১ হাজার। এ ছাড়া অন্যান্য স্টেডিয়ামগুলো হলো সেইন্ট পিটার্সবার্গ, কালিনিনগ্রাড, নিজনি নোভোগোরোড, কাজান, ইয়েকাটেরিনবার্গ, সারানাস্ক, সামারা, ভোলগোগ্রাড, রোস্তোভ ও সোচি।

বিশ্বকাপের ফর্মেট :

এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপে ৩২টি দেশ অংশ নিচ্ছে। আটটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দলগুলো খেলবে, প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে চারটি করে দল। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল নক আউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।

অংশগ্রহনকারী দলগুলো হলো :

গ্রুপ-এ : রাশিয়া, মিশর, সৌদি আরব, উরুগুয়ে
গ্রুপ-বি : পর্তুগাল, স্পেন, মরক্কো, ইরান
গ্রুপ-সি : ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, পেরু, ডেনমার্ক
গ্রুপ-ডি : আর্জেন্টিনা, আইসল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, নাইজেরিয়া
গ্রুপ-ই : ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকা, সার্বিয়া
গ্রুপ-এফ : জার্মানি, মেক্সিকো, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া
গ্রুপ-জি : বেলজিয়াম, পানামা, তিউনিশিয়া, ইংল্যান্ড
গ্রুপ-এইচ : পোল্যান্ড, সেনেগাল, কলম্বিয়া, জাপান।

প্রাথমিক তথ্যঃ

আসর = ২১ তম (আয়োজক – রাশিয়া)
ফাইনাল ম্যাচ এর স্টেডিয়াম = লুঝনিকি স্টেডিয়াম,মস্কো।
মোট যত শহরে খেলা = ১১ টি
মোট স্টেডিয়াম = ১২ টিমোট ম্যাচ = ৬৪ টি
চ্যাম্পিয়ন: ফ্রান্স
রানার্স আপ: ক্রোয়েশিয়া
গোল্ডেন বুট: হ্যারি কেন (ইংল্যান্ড)
গোল্ডেন বল: লুকা মড্রিচ (ক্রোয়েশিয়া)
গোল্ডেন গ্লাভস: থিবো কোর্তোয়া (বেলজিয়াম)
সিলভার বল: বেলজিয়ামের অধিনায়ক ইডেন হ্যাজার্ড
ব্রোঞ্জ বল: ফ্রান্সের অ্যান্তোনি গ্রিজম্যান
সিলভার বুট: ফ্রান্সের গ্রিজম্যান
ব্রোঞ্জ বুট: বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু
ফিফার সেরা উদীয়মান ফুটবলার: ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে
ফেয়ার প্লে ট্রফি: রাশিয়া বিশ্বকাপে ফিফা ফেয়ার প্লে ট্রফি জিতেছে স্পেন
ম্যান অব দ্য ফাইনাল: অ্যান্তোনি গ্রিজম্যান।
দ্রুততম গোল: থমাস মিউনিয়ের (বেলজিয়াম ৪মিনিট)
তৃতীয় স্থান: বেলজিয়াম
প্রথম ম্যাচ:রাশিয়া-সৌদি আরব
প্রথম রেফারি:নেস্টর পিটানা (আর্জেন্টিনা)
প্রথম কিক:সৌদি আরব
প্রথম কর্নার:রাশিয়া
প্রথম থ্রো:সৌদি আরব
প্রথম ফাউল:ওমার হাওশাই (সৌদি আরব)
প্রথম ফ্রি-কিক:আলেকজান্ডার সামেদভ (রাশিয়া)
প্রথম গোল:ইউরি গ্যাজিনস্কি (রাশিয়া)
হেড থেকে প্রথম গোল:ইউরি গ্যাজিনস্কি (রাশিয়া)
প্রথম অ্যাসিস্ট:আলেক্সান্ডার গোলভিন (রাশিয়া)
প্রথম হলুদ কার্ড:আলেক্সান্ডার গোলভিন (রাশিয়া)
প্রথম লাল কার্ড:কার্লোস সানচেজ (কলম্বিয়া)
ফেয়ার প্লের মাধ্যমে আউট হওয়া দল:সেনেগাল
দ্রুততম হলুদ কার্ড:জেসুস গালারডো (মেক্সিকো)
ভিআরএর মাধ্যমে প্রথম গোল:রাশিয়া-সৌদি আরব
ভিআরএর মাধ্যমে প্রথম পেনাল্টি:ফ্রান্স-অস্ট্রেলিয়া
বদলি হিসেবে নেমে গোল:আর্টেম জিউবা (রাশিয়া)
দ্রুততম পরিবর্তন:ডেনিস চেরিশেভ (রাশিয়া)

অংশগ্রহণ সংক্রান্তঃ

অংশগ্রহন কারী দেশ = ৩২
মুসলিম দেশ = ৭ টি
নর্ডিক দেশ = ৩ টি
আরব দেশ = ৪ টি
প্রথম বার খেলেছে = ২ টি (আইসল্যান্ড ও পানামা)

আনুষাঙ্গিক তথ্যঃ

বলের নাম = টেলস্টার ১৮ (প্রথম রাউন্ড) এবং টেলস্টার মেচতা (২য় রাউন্ড থেকে ফাইনাল পর্যন্ত, মেচতা – এর মানে= Ambition)
টেলস্টার – শব্দ টি এসেছে = Television +Star

বিশ্বকাপের মাস্কট = জাবিভাকা (অর্থ – জংলী নেকড়ে)
থিম সং = Live it up [Nicky Jam]
মোট হলুদ কার্ড:২১৯টি
সর্বোচ্চ হলুদ কার্ড দেখা দল:পানামা (১১টি)
মোট লাল কার্ড:৪টি
হলুদ কার্ডের গড়: ৩.৫
লাল কার্ডের গড়: ০.০৬
ম্যাচে গড় পাস: ৭৭৫.৮
সর্বোচ্চ আক্রমণকারী দল: ক্রোয়েশিয়া (৩৫২)
সেরা পাস: ইংল্যান্ড (৩৩৩৬)
সেরা রক্ষণ (সেভ): ক্রোয়েশিয়া (৩০১)
গোলমুখে সর্বোচ্চ চেষ্টা: নেইমার (ব্রাজিল)
সবচেয়ে বেশি দৌড়েছেন: ইভান পেরেসিচ (৭২ কিমি)
সবচেয়ে বেশি পাস (খেলোয়াড়): সার্জিও র‍্যামোস (স্পেন)
ফাইনাল ম্যাচের রেফারি: নেস্তর পিটানা (আর্জেন্টিনা)
ট্রফির ওজন: ৬ কেজি
চ্যাম্পিয়ন দলের পুরষ্কার: ৩৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩১৮ কোটি টাকা)
রানার্স আপ দলের পুরষ্কার: ২৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৩৪ কোটি টাকা)
অংশগ্রহনকারী দেশ: ৩২টি
তৃতীয় দল:২০১ কোটি ৬ লাখ টাকা
চতুর্থ দল:১৮৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা
পঞ্চম-অষ্টম (শেষ আট) :১৩৪ কোটি ৪ লাখ টাকা

নবম-১৬তম (দ্বিতীয় রাউন্ড):১০০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা
১৭-৩২তম (গ্রুপ পর্ব):৩৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা
বিশ্বকাপ ফাইনালে আত্মঘাতী গোল করা প্রথম ফুটবলার ক্রোয়েশিয়ার মারিও মানজুকিচ।
কোচ ও অধিনায়কের ভূমিকায় বিশ্বকাপ জেতা মাত্র দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন দিদিয়ের দেশম।
তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে বিশ্বকাপ জিতলেন এমবাপ্পে।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় এসাম এল-হাদারি। মিসর, ৪৫ বছর ১৬১ দিনে বিশ্বকাপে নামেন।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ৩৩ বছর বয়সে।
ষষ্ঠ দল হিসেবে একাধিকবার বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড গড়ল ফ্রান্স। সর্বোচ্চ ব্রাজিল (৫ বার)।

বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৯ বছর ২০৭ দিন) পেলের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হলেন, যিনি ২০ বছরের কম বয়সে ফাইনালে গোল করলেন। পেলে করেছিলেন ১৯৫৮ বিশ্বকাপে (১৭ বছর ২৪৯ দিন বয়সে)।

পুরস্কার সংক্রান্ত:

চ্যাম্পিয়ন = ফ্রান্স (২য় বার, সর্বশেষ ১৯৯৮)
রানার্স আপ = ক্রোয়েশিয়া
তৃতীয় স্থান = বেলজিয়াম

ফাইনাল ম্যাচের স্কোর = ৪-২ ফাইনাল
ম্যাচের ম্যান অফ দ্য ম্যাচ = গ্রিজম্যান (ফ্রান্স)
উদীয়মান তরুন খেলোয়াড় (সিলভার বল) = কে. এমবাপ্পে (ফ্রান্স)
টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় (গোল্ডেন বল) = লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া)
সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) = হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড) [৬ টি]
সেরা গোলকিপার (গোল্ডেন গ্লাভস) = কর্তুয়া (বেলজিয়াম)
ফেয়ার প্লে এওয়ার্ড = স্পেন
বিশ্বকাপ জয়ী দল পাবে = ৩৮ মিলিয়ন ডলার
রানার্স আপ পাবে = ২৮ মিলিয়ন ডলার
পুরো টুর্নামেন্টের মোট পুরস্কার = ৪০০ মিলিয়ন ডলার

গোল সংক্রান্ত :

সর্বোচ্চ গোলদাতা:হ্যারি কেন (৬ গোল)
সর্বোচ্চ গোল প্রদানকারী দেশ:বেলজিয়াম ১৬টি
কম গোল হজমকারী দেশ:উরুগুয়ে
সর্বোচ্চ গোলরক্ষাকারী: থিউবো কর্তোয়া (বেলজিয়াম)
মোট গোল:১৬৯টি
সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ (৭ গোল) = ৩ টি (তিউনিসিয়া বনাম বেলজিয়াম) (ফ্রান্স বনাম আর্জেন্টিনা) (ইংল্যান্ড বনাম পানামা)
মোট গোল = ১৬৯ টি
সবচেয়ে বেশি গোল করেছে = বেলজিয়াম (১৬ টি)
শেষ গোল: মানজুকিচ
ম্যাচ প্রতি গড় গোল: ২.৬
মোট পাস: ৪৯৬৫১
লাল কার্ড = ৪ টি
প্রথম লাল কার্ড = সাঞ্চেজ মরেনো (কলম্বিয়া)
হলুদ কার্ড = ২১৯ টি (সবচেয়ে বেশি – ক্রোয়েশিয়া)
প্রথম হলুদ কার্ড = আলেকজান্ডার গলোভিন (রাশিয়া)
আত্মঘাতী গোল = ১২ টি (বিশ্বকাপ ইতিহাসে মোট ৫৩ টি)
সবচেয়ে বেশি আত্মঘাতী গোল = রাশিয়া (২টি)
পেনাল্টি শট = ২৯ টি
পেনাল্টি গোল = ২২ টি
পেনাল্টি মিস = ৭ টি
প্রথম পেনাল্টি থেকে গোল:ইউরি গ্যাজিনস্কি (রাশিয়া)
প্রথম হ্যাটট্রিক:ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)
প্রথম পেনাল্টি মিস:লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
প্রথম আত্মঘাতি গোল:আজিজ বুহাদ্দুজ (মরক্কো)
পঞ্চাশতম গোল:লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া)
শততম গোল:লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
হ্যাট্রিক করেছেন = ২ জন [ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো(১ম) , হ্যারি কেইন(২য়)]
১ম গোল = ইউরি গাজিনস্কি (রাশিয়া)
বিশ্বকাপের সর্বশেষ গোল করেছেন = মাঞ্জুইচ (ক্রোয়েশিয়া)
২য় রাউন্ডে খেলা একমাত্র এশিয়ান দল = জাপান

ভিন্নধর্মী তথ্যঃ

প্রথম বার সংযোজন = VAR (video assistant referee)
পুরস্কার প্রত্যাখানকারি = মোহাম্মদ আল শিনাওয়ি (মিশর)

চ্যাম্পিয়নশিপ সংক্রান্তঃ

একবারের বেশি বিশ্বকাপ জয়ী দল = ৬ টি (ফ্রান্স,ব্রাজিল,জার্মানি,উরুগুয়ে,আর্জেন্টিনা,ইতালি)
সর্বোচ্চ জয়ী = ব্রাজিল (৫ বার)
এখন পর্যন্ত সব বিশ্বকাপ খেলেছে = ব্রাজিল (২১ বার)
এ পর্যন্ত মোট চ্যাম্পিয়ন দেশ = ৮ টি (ফ্রান্স,ব্রাজিল,জার্মানি,উরুগুয়ে,আর্জেন্টিনা,ইতালি,ইংল্যান্ড,স্পেন)

পরবর্তী বিশ্বকাপ সংক্রান্ত:

পরবর্তী বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ: কাতার
অনুষ্ঠিত হবে: ২১ নভেম্বর, ২০২২ থেকে ১৮ ডিসেম্বর, ২০২২ এর মধ্যে
২০২২ বিশ্বকাপ = কাতার (৩২ দেশ অংশ নেবে)
৪৮ দলের অংশগ্রহনে বিশ্বকাপ হবে: ২০২৬ সালে কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আয়োজনে ।
২০২৬ বিশ্বকাপ = মেক্সিকো,যুক্তরাষ্ট্র,কানাডা (৪৮ দেশ অংশ নেবে এবং এর অপর নাম UNITED 2026)

(সংগৃহীত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

More Job Circular

More Job Circular