৩৮ তম বিসিএস লিখিত প্রস্তুতিঃ স্থানীয় শাসন

৩৮ তম বিসিএস লিখিত প্রস্তুতিঃ সমাজ বিজ্ঞান বিষয়

স্থানীয় শাসন

রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে। স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা সমাধানের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে এই ধরনের সরকার গড়ে ওঠে। বাংলাদেশের এই ধরনের স্থানীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় জনগণ রাষ্ট্রের শাসনকার্যে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। তাই স্থানীয় শাসন গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। বাংলাদেশ সংবধানের ৫৯ ও ৬০ নং অনুচ্ছেদে স্থানীয় শাসন সম্পর্কে বলা আছে।

  • স্থানীয় সরকার
  • বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারব্যবস্থার স্বরূপ
  • ইউনিয়ন পরিষদ
  • উপজেলা পরিষদ
  • জেলা পরিষদ
  • পৌরসভা
  • সিটি কর্পোরেশন
  • পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ স্থানীয় সরকারব্যবস্থা
  • পার্বত্য জেলা পরিষদ
  • পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ

স্থানীয় সরকার

প্রশ্ন: গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্ব কতটুকু? সংক্ষেপে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বর্ণনা দিন। [২৯তম বিসিএস লিখিত]
স্থানীয় সরকার হচ্ছে রাষ্ট্রের এলাকাকে বিভক্ত করে ক্ষুদ্রতর পরিসরে প্রতিষ্ঠিত সরকারব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে স্থানীয় সরকারের রূপ দুই ধরনের হয়।
প্রথমত, স্থানীয় প্রশাসন যেখানে প্রশাসক সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার নিয়োগ দেয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়নই এর প্রধান কাজ। সরকারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সচিব সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হন।
দ্বিতীয়ত, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার বলতে বুঝি এমন ধরনের সরকারব্যবস্থা যা ছোট ছোট এলাকায় স্থানীয় প্রয়োজন মেটাবার জন্য জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত ও আইনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থা।
আমাদের দেশে ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের উদাহরণ। স্থানীয় প্রশাসন আবার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে।
স্থানীয় সরকারের গুরুত
ব্রিটিশ রাজনৈতিক দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, স্থানীয় সরকার সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং এ বিষয়ে নাগরিকদেরকে সচেতন করে। স্থানীয় সরকার স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিকদেরকে যথাযথভাবে বিভিন্ন সেবা প্রদান করতে পারে। স্থানীয় প্রশাসকদের পক্ষে সঠিকভাবে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ চিহ্নিত করা, তাদের বিভিন্ন বিষয়ে যথার্থ জ্ঞান লাভ এবং স্থানীয় উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা লাভ সম্ভব হয়।

নাগরিকতা বিকাশে স্থানীয় সরকারঃ

বাংলাদেশে শহর ও গ্রামীণ নাগরিকদের সাথে স্থানীয় সরকারের যোগাযোগ ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নাগরিকতার বিকাশে স্থানীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নিচে তা আলোচনা করা হলো।

১) নাগরিক সেবা প্রদানে স্থানীয় সরকার: সকল শ্রেণির মানুষ তাদের নানা প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার দপ্তরে যোগাযোগ করে। যেমন- শিক্ষার্থীদের পিতার আয়ের সনদপত্র সত্যায়িতকরণে এবং জন্মনিবন্ধনের সার্টিফিকেট তোলার প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে যেতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা নাগরিকদেরকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেবা প্রদান নিশ্চিত করার বিবরণ প্রকাশ করে, যা ‘নাগরিক সনদ’ নামে পরিচিত।

নাগরিক সেবা সহজলভ্য করার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সরকারে বর্তমান ই-গভার্নেন্স চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে বলা যায়, ঘরে বসে মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত গতিতে লাভ করতে পারবে। স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রে নতুন এই সংযোজন এক যুগান্তকারী ঘটনা। এ ব্যবস্থা নাগরিক অধিকার অর্জনে পূর্বের চেয়ে বেশি সহায়ক হবে।

২. স্থানীয় শাসনে জনগণের অংশগ্রহণ: গ্রামে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা গ্রামের মানুষদেরকে সরকারের সাথে সংযুক্ত করে। ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ বিবাদ সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

৩. নেতৃত্বের বিকাশঃ স্থানীয় নেতারা স্থানীয় পর্যায়ে সফল নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখে।

৪. দুর্নীতি রোধ ও প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নঃ কেন্দ্র থেকে সকল বরাদ্দ স্থানীয় পর্যায়ে সরাসরি আসে, ফলে তার সুষম বণ্টন সম্ভব হয়। এতে দুর্নীতির সুযোগ কম। তাছাড়া স্থানীয় প্রকল্পে জনগন সরাসরি সম্পৃক্ত থাকায় তার সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
৫. বিবাদ নিষ্পত্তি: যেকোনো বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদ আয়োজিত সালিশ বা অনানুষ্ঠানিক নিষ্পত্তির ব্যবস্থা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রতিষ্ঠিত গ্রাম আদালত গ্রামীণ জনগণের বিবাদ নিষ্পত্তিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়। এর ফলে গ্রামের গরিব মানুষ শহরে এসে বিচারের জন্য হয়রানির স্বীকার হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।

৬. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনঃ যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে স্থানীয় সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে, তাই বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক জটিলতা এড়িয়ে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানো সম্ভব।

৭. কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের চাপে হ্রাসঃ স্থানীয় সরকারের মাধ্যেমে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের চাপ কমে যায়। কেননা অনেক সময় রাজধানীর বিপুল সংখ্যক জনগণকে নিয়েই কেন্দ্রীয় সরকার কে ব্যস্ত থাকতে হয়।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারব্যবস্থার স্বরূপ
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারব্যবস্থার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মুঘল আমল থেকে শুরু হয়ে ব্রিটিশ শাসন পর্যন্ত নানা আইনি সংস্কারের মধ্য দিয়ে এদেশে স্থানীয় সরকারের শাসন-কাঠামো রূপ লাভ করে। পাকিস্তানি শাসন আমলেও এর প্রকৃতি অপরিবর্তিত থাকে।
১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর নতুন রাষ্ট্রের সবকিছুই ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন হয়। নতুন রাষ্ট্রে ১৯৭২-এর সংবিধানে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো লক্ষ করা যায়। যথা- ইউনিয়ন পরিষদ, থানা/উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ। এছাড়া শহরগুলোতে পৌরসভা, ১২টি বড় শহরে সিটি কর্পোরেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলায় (খাগড়াছড়ি, বান্দরবন, রাঙ্গামাটি) স্থানীয় জেলা পরিষদ রয়েছে।
উল্লিখিত তিন স্তরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকেই নিচের দিকে সবচেয়ে কার্যকর ইউনিট বলে মনে করা হয়ে থাকে। গ্রাম বা এর নিকটবর্তী হচ্ছে ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ। শহর এলাকায় রয়েছে পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি
কর্পোরেশন। এছাড়া পার্বত্য এলাকার জন্য বিশেষ স্থানীয় সরকারের ব্যবস্থা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন
গ্রামভিত্তিক স্থানীয় সরকার

জেলা পরিষদ (৬১)
উপজেলা পরিষদ (৪৯২)
ইউনিয়ন পরিষদ ৪৫৫৩

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন
শহরভিত্তিক স্থানীয় সরকার
সিটি কর্পোরেশন (১২)
পৌরসভা (৩২৮)

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ
বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি পাহাড়ি জেলা পরিষদ

বাংলাদেশে প্রতিটি স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্বের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
জেলা পরিষদ
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলার জনগণ দ্বারা সরাসরি নির্বাচনের বিধান রাখা হয়। জেলা পরিষদের সভাপতি একজন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান এবং জেলা প্রশাসককে তার অধীনে প্রধান নির্বাহী করা হয়। সংসদ সদস্য এই পরিষদে পরামর্শকের ভূমিকা পালন করেন। তবে বর্তমানে সরকার জেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যানের বদলে একজন করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন। প্রশাসকের পদ মর্যাদা এখনও সরকারি প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত হয়নি।

গঠন:

২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী জেলা পরিষদ গঠিত হবে একজন চেয়ারম্যান, পনেরজন সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে ৫ জন মহিলা সদস্যদেরকে নিয়ে। এরা সবাই পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হবেন একটি নির্দিষ্ট জেলার অধীন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কমিশনারবৃন্দ, ইউপি চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের ভোটে। এই পরিষদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।

কার্যাবলি:

২০০০ সালে জাতীয় সংসদে জেলা পরিষদ আইন পাশ হয়। এই আইনের অধীনে জেলা পরিষদকে ১২টি বাধ্যতামূলক এবং ৬৮টি ঐচ্ছিক কার্যাবলির দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলা পরিষদের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন।

শিল্প এবং বাণিজ্যের উন্নয়ন, সরকারি হাসপাতাল তত্ত্বাবধান, পারিবারিক ক্লিনিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেই সাথে আন্তঃজেলা সড়ক প্রকল্প প্রস্তুতকরণ এবং চলমান পুলিশি কর্মকাণ্ডের তত্ত্বাবধান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়তা, সন্ত্রাস দমনে সুপারিশ এবং উপজেলা কর্মকাণ্ডের তদারক।

জেলা পরিষদ ৫ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করবে এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাবে।
আয়ের উৎস:
জেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ অনুযায়ী জেলা পরিষদকে ৮টি খাতের আয়ের উৎস কি সেগুলো দেওয়া হয়। এই উৎসগুলো ছাড়াও জেলা পরিষদের জন্য জমি হস্তান্তর করের ১ শতাংশ এবং ৫ শতাংশ ভূমি কর রাখার ব্যবস্থা করা।

এছাড়া হাট-বাজার, ফেরি ঘাট এবং জলমহাল থেকে বর্ধিত পরিমাণ লিজের অর্থ জেলা পরিষদ পাবে। তবে গঠনতন্ত্রে যেভাবে বলা আছে, জেলা পরিষদ সম্পূর্ণ সেভাবে এখনো কার্যকর নয়।

৩৮তম বিসিএস লিখিত প্রস্তুতিঃ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী

উপজেলা পরিষদ গঠন:

জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন চেয়ারম্যান, দুজন ভাইস চেয়ারম্যান (এদের মধ্যে একজন হবেন মহিলা) এবং উপজেলার আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদসমূহের চেয়ারম্যানবৃন্দ, পৌরসভার (যদি থাকে) চেয়ারম্যান এবং তিনজন মহিলা সদস্যের সমন্বয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়।

২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদেরকে পরিষদের পরামর্শকের ভূমিকা প্রদান করা হয়েছে। চেয়ারম্যান উপজেলার ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা (যদি থাকে) চেয়ারম্যানবৃন্দ পদাধিকার বলে এর সদস্য হবেন।

ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার (যদি থাকে) নির্বাচিত মহিলা সদস্যদের ভোটে তাদের মধ্য থেকে তিনজন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হবেন।
উপজেলা পরিষদের জন্য ৩ সদস্যের একটি চেয়ারম্যান প্যানেল থাকবে, যার অন্তত একজন মহিলা হবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা বা সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদের কার্যকাল হবে ৫ বছর। বতর্মানে বাংলাদেশে ৪৯২ টি উপজেলা রয়েছে।

কার্যাবলি:

উপজেলা পরিষদের কাজগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।
১. ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন করে।
২. যোগাযোগ ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আন্তঃইউনিয়ন সংযোগকারী রাস্তা নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করে।
৩. মহিলা ও শিশু উন্নয়ন, সমাজকল্যাণ, যুব, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে সহায়তা দান করে।
৪. কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে পশু পালন, মৎস্য চাষ, বনজ সম্পদ উন্নয়ন ও সেচ প্রকল্প গ্রহণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করে।
৫. নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জনমত গঠন করে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
৬. প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করে।
৭. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপন ও বিকাশের জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করে।
৮. শিক্ষা প্রসারের জন্য জনমত তৈরি এবং মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা কার্যক্রমের মান উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারক করে।
৯. নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
১০. উপজেলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ পুলিশ বিভাগের কার্যক্রম আলোচনা করে।
১১. আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কর্মসূচি গ্রহণ করে।
১২. সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদন করে।

আয়ের উৎস:

উপজেলা পরিষদ কর্তৃক ধার্যকৃত কর, রেইট, টোল, ফি এবং সরকার ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ বা অনুদান ইত্যাদি নিয়ে উপজেলা পরিষদের তহবিল গঠিত হবে।
সিটি কর্পোরেশন
বাংলাদেশের প্রধান শহরকে কেন্দ্র করে সিটি কর্পোরেশনগুলো গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের মোট ১২টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। এগুলো হলো ঢাকায় দুইটি (ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ), চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রাজশাহী, খুলনা,
বরিশাল, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ রংপুর ও ময়মনসিংহ।
গঠন:
প্রত্যেক সিটি কর্পোরেশন সরকারি প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত সংখ্যক ওয়ার্ডে বিভক্ত থাকে। একজন মেয়র, নির্ধারিত ওয়ার্ডের সমান সংখ্যক কাউন্সিলর এবং নির্ধারিত ওয়ার্ডের এক-তৃতীয়াংশ সংখ্যক সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর নিয়ে সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়। মেয়র ও কাউন্সিলরগণ জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন এবং সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলরগণ নির্বাচিত হন কাউন্সিলরদের ভোটে। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন। সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ ৫ (পাঁচ) বছর।
কার্যাবলি:
মহানগর এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং উন্নয়নের জন্য সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করে থাকে। নিচে তা আলোচনা করা হলো।
১. সিটি কর্পোরেশন মহানগরীর রাস্তাঘাট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। মোটরগাড়ি, বাস, ট্রাক ছাড়া অন্যান্য যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান করে এবং রাস্তায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
২. জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সিটি কর্পোরেশন নালা-নর্দমা, রাস্তাঘাট আবাসিক এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে। ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিন নির্মাণ, বিভিন্ন স্থানে শৌচাগার, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ইত্যাদি নির্মাণ করে। এছাড়া হাসপাতাল, মাতৃসদন, শিশুসদন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনা করে।
৩. জনসাধারণের জন্য নিরাপদ খাওয়ার পানি সরবরাহ, কূপ ও নলকূপ খনন এবং আবদ্ধ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে।
৪. সিটি কর্পোরেশন মহানগর এলাকায় পচা-বাসি ও ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় ও সরবরাহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুত, আমদানি ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রদান করে।
৫. মহানগর এলাকায় গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন, গবাদি পশু রেজিষ্ট্রিকরণ, বিপজ্জনক পশু আটক ও হত্যা, পশুর মৃতদেহ অপসারণ, হাঁস-মুরগির খামার স্থাপন ইত্যাদি কাজ করে।
৬. মহানগরীর গরিব-দুঃখী মানুষকে সাহায্য করা, অনাথ আশ্রম ও জনকল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন, ভিক্ষাবৃত্তি ও পতিতাবৃত্তি রোধ ও পুনর্বাসন, জুয়াখেলা, মাদকাসক্তি ও অসামাজিক কাজ প্রতিরোধের ব্যবস্থা করে।
৭. প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সিটি কর্পোরেশন ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে।
৮. মহানগরীর নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র, নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন করে। শিক্ষা বিস্তারের জন্য নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠন স্থাপন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান, হোস্টেল নির্মাণ, বৃত্তি প্রদান, পাঠাগার নির্মাণ ও পরিচালনা ইত্যাদি কাজ করে।
৯. সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য সিটি কর্পোরেশন মিলনায়তন, আর্ট-গ্যালারি, তথ্যকেন্দ্র, জাদুঘর, মুক্তমঞ্চ ইত্যাদি নির্মাণ করে।
১০. মহানগরের পরিবেশের উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সিটি কর্পোরেশন রাস্তার পাশে ও উন্মুক্ত স্থানে বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ করে। জনসাধারণের অবকাশ যাপনের জন্য উদ্যান নির্মাণ করে।
১১. সিটি কর্পোরেশন মহানগর এলাকায় ঘরবাড়ি নির্মাণের অনুমতি প্রদান করে। অননুমোদিত ঘরবাড়িসহ সকল স্থাপনা ভেঙে দেয় এবং অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের ব্যবস্থা করে।
১২. সিটি কর্পোরেশন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন করে।
১৩. মহানগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সিটি কর্পোরেশন ছোটখাটো বিচারকাজ সম্পাদন করে। বিবাদ মীমাংসা ও মহল্লায় শান্তি রক্ষার জন্য শান্তিরক্ষী নিয়োগ করে। মহানগরীতে চুরি-ডাকাতি, হাইজ্যাকরোধ ও সন্ত্রাস দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
১৪. সর্বোপরি মহানগরীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য সিটি কর্পোরেশন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে।
আয়ের উৎস:
ক. সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক আরোপিত যেকোনো কর, উপকর, টোল ও ফিস ইত্যাদি;
খ. কর্পোরেশনের উপর ন্যস্ত এবং তৎকর্তৃক পরিচালিত সকল সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত আয় বা মুনাফা;
গ. সরকার বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের নিকট হতে প্রাপ্ত অনুদান;
ঘ. স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃক প্রদত্ত দান;
ঙ. কর্পোরেশনের উপর ন্যস্ত সব ট্রাস্ট হতে প্রাপ্ত আয়;চ. কর্পোরেশনের অর্থ বিনিয়োগ হতে প্রাপ্ত মুনাফা;
ছ. অন্যান্য উৎস হতে প্রাপ্ত অর্থ;
জ. আইনের অধীন অর্থদণ্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ ইত্যাদি।

পৌরসভা

গ্রামে যেমন ইউনিয়ন পরিষদ, তেমনি শহরের জন্য রয়েছে পৌরসভা। বর্তমানে বাংলাদেশে ৩২৮ টি পৌরসভা রয়েছে।
গঠন:
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ অনুযায়ী পৌরসভা গঠিত হবে একজন মেয়র, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত সংখ্যক ওয়ার্ডের সমানসংখ্যক কাউন্সিলর এবং কেবল মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত নির্ধারিত সংখ্যক কাউন্সিলরের সমন্বয়ে। এই সকল পদেই জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
কার্যাবলি:
পৌরসভা শহরের জনগণের স্থানীয় সমস্যার সমাধান এবং উন্নয়নমূলক কাজের দায়িত্ব পালন করে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পৌরসভাকে অনেকগুলো কাজ করতে হয়। উল্লেখযোগ্য কাজগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো।
১. পৌর এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের জন্য অনুদান প্রদান, হোস্টেল নির্মাণ, মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র ও নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন, পাঠাগার স্থাপন করা ইত্যাদি কাজ করে।
২. পৌরসভা শহরের জনস্বাস্থরক্ষামূলক কার্যাদি সম্পন্ন করে। জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য রাস্তাঘাট, পুকুর, নর্দমা ও ডাস্টবিন নির্মাণ করে। সংক্রামক ও মহামারী ব্যাধি প্রতিরোধ ও প্রতিষেধক দানের ব্যবস্থা করে। হাসপাতাল, মাতৃসদন, শিশুসদন, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার ব্যবস্থা করে।
৩. মৃতদেহ সৎকারের জন্য গোরস্থান, শ্মশান ইত্যাদি নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। অনাথ ও দুঃস্থদের জন্য এতিমখানা ও আশ্রম নির্মাণ করে।
৪. জনগণের জন্য নিরাপদ খাওয়ার পানির ব্যবস্থা এবং আবদ্ধ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে।
৫. পৌর এলাকার জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য পৌরসভা নৈশপ্রহরী নিয়োগ করে। অপরাধমূলক ও বিপজ্জনক খেলা ও পেশা নিয়ন্ত্রণ করে।
৬. পৌরসভা এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য রাস্তার ধারে বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ করে। জনগণের বিনোদনের জন্য পার্ক ও উদ্যান নির্মাণ, মিলনায়তন স্থাপন এবং উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ সংরক্ষণ করে।
৭. পৌর এলাকায় গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন, খামার স্থাপন, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, গবাদি পশু বিক্রি ও রেজিস্ট্রিকরণ, বিপজ্জনক পশু আটক ও হত্যা, পশুর মৃতদেহ অপসারণ ইত্যাদি কাজ করে।
৮. খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে, পচা ও ভেজাল খাবার বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মাদকজাতীয় খাদ্য ও পানীয় অবাধে বিক্রি বন্ধের জন্য এসব দ্রব্য প্রস্তুত, ক্রয়-বিক্রয় এবং সরবরাহের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারীকে শাস্তি দেয়।
৯. পরিকল্পিত শহর গড়ার জন্য পৌরসভা বাড়িঘর নির্মাণের অনুমতি দেয়। অননুমোদিত ও বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেয়।
১০. সুপরিকল্পিত সুন্দর শহর গড়া এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পৌরসভা মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে।
১১. পৌরসভা যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে এবং মোটরগাড়ি ছাড়া অন্যান্য যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান করে।
১২. প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পৌরসভা দুর্গতদের সাহায্য, সেবা এবং ত্রাণের ব্যবস্থা করে।
১৩. পৌরসভা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার জন্য সন্ত্রাস দমন ও শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
১৪. পৌরসভা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা মূল্য জড়িত দেওয়ানি ও ছোটখাটো ফৌজদারি মামলার বিচার করতে পারে। এজন্য মেয়র ও চারজন কাউন্সিলরের সমন্বয়ে আদালত গঠন করা হয়।
আয়ের উৎস:
বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে পৌরসভা তার ব্যয়ভার নির্বাহ করে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-
ঘরবাড়ি, দোকানপাট, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য সেবা এবং বিনোদনমূলক বিষয়ের উপর ধার্য কর, মার্কেট ভাড়া, হাট-বাজার ও খেয়াঘাট ইজারা, লাইসেন্স-পারমিট, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন ফি, সরকারি বরাদ্দ ইত্যাদি।
ইউনিয়ন পরিষদ
গঠন:
গড়ে ১০-১৫টি গ্রাম নিয়ে একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত। এর একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান, নয়জন নির্বাচিত সাধারণ সদস্য ও তিনজন নির্বাচিত মহিলা সদস্য (সংরক্ষিত আসনে) রয়েছে। একটি ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত। প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে একজন করে ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৯ জন সাধারণ সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
মহিলা সদস্যগণ প্রতি ৩ ওয়ার্ডে ১ জন-এই ভিত্তিতে পুরুষ ও মহিলা সকলের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। ইউনিয়ন পরিষদে একজন বেতনভুক্ত সচিব থাকে। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যকাল ৫ বছর। তবে মেয়াদ পূর্তির পূর্বেও দুইতৃতীয়াংশ সদস্যের অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও অন্য যেকোনো সদস্যকে অপসারণ করা যায়। বাংলাদেশে সর্বমোট ৪,৫৫৩ টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।

কার্যাবলি:
ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রামীণ সমস্যা দূরীকরণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরি করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ অনেক কাজ করে। নিম্নে সেগুলো আলোচনা করা হলো।
১. ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং রাস্তার ধারে বৃক্ষরোপণ করে।
২. কৃষি উন্নয়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ উন্নতমানের বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ ও অধিক খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান করে।
৩. মৎস্য চাষ, পশুপালন ও পশুসম্পদ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
৪. জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করে। ময়লা আবর্জনা ফেলা, প্রাণী জবাই, গবাদি পশুর গোসল, ময়লা কাপড়-চোপড় ধোয়া ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে।
৫. প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে।
৬. ইউনিয়ন পরিষদ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গণসচেতনতা তৈরি করে এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ অল্প খরচে সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা করে।
৭. শিক্ষা বিস্তারের ও নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, বয়স্ক শিক্ষাদান কেন্দ্র ও লাইব্রেরি স্থাপন ইত্যাদি করে।
৮. জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কুটির শিল্প স্থাপন ও সমবায় আন্দোলন পরিচালনা করে এবং এ ব্যাপারে জনগণকে উৎসাহিত করে।
৯. ইউনিয়ন পরিষদ নিজ অফিসের ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন ধরনের কর ধার্য় ও আদায় করে এবং বিভিন্ন ধরনের রাজস্ব সংগ্রহে সরকারকে সহায়তা করে।
১০. ইউনিয়ন পরিষদ জন্ম-মৃত্যু ও বিবাহ রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ করে।
১১. বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ইউনিয়ন পরিষদ দুঃস্থদের সাহায়্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে।
১২. ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করে। সর্বোচ্চ পাঁচ (০৫) হাজার টাকা দাবির দেওয়ানি ও ছোটখাটো ফৌজদারি মামলার বিচার ইউনিয়ন পরিষদ করতে পারে।

আয়ের উৎস:

ইউনিয়ন পরিষদের আয়ের উৎস :
ক. বাড়িঘর, দালান-কোঠার উপর কর
খ. গ্রাম পুলিশ রেট
গ. জন্ম, বিবাহ ও ভোজের উপর ফি
ঘ. সিনেমা, থিয়েটার, যাত্রা, সার্কাস, মেলা ইত্যাদির উপর কর
ঙ. যানবাহনের উপর কর
চ. লাইসেন্স, পারমিট ফি
ছ. জনস্বার্থে বিশেষ কল্যাণকর কাজের জন্য ফি
জ. হাট বাজার, জলমহাল, ফেরিঘাট ইজারা ও টোল সংগ্রহ
ঝ. সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বরাদ্দ/অনুদান ইত্যাদি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ স্থানীয় সরকারব্যবস্থা

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ স্থানীয় সরকারব্যবস্থা গড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট অন্যান্য স্থানীয় সরকার থেকে আলাদা। ঐতিহাসিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও জীবনযাপন পদ্ধতি বাঙালিদের চেয়ে ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। এ আলাদা পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসছিল।
তাদের দাবির ফলেই ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে এ অঞ্চলে ভিন্ন প্রকৃতির স্থানীয় সরকার কাঠামো গড়ে উঠেছে।

সরকারের সঙ্গে পার্বত্য জেলা ও আঞ্চলিক পরিষদের সম্পর্ক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হয়েছে। উভয় পরিষদকে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, জেলা
পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন কোনো প্রকারের জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল পরিষদের সহিত আলোচনা ও উহার সম্মতি ব্যতিরেকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর করা যাইবে না।
আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত ব্যাপারে বলা হয়েছে, সরকার আঞ্চলিক পরিষদ বা পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে কোনো আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করিলে পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের সহিত আলোচনাক্রমে এবং পরিষদের পরামর্শ বিবেচনাক্রমে আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
জেলা ও আঞ্চলিক পরিষদ আইনের বা কোনো বিধি-বিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না, এরূপ বিধি প্রণয়ন করতে পারবে। যাহোক, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত। অপর দিকে, সরকার প্রয়োজন দেখা দিলে জেলা পরিষদের কাজকর্মের ব্যাপারে নির্দেশ প্রদান বা অনুশাসন এবং গেজেট আদেশ দ্বারা আঞ্চলিক পরিষদ বাতিল ঘোষণা পর্যন্ত করতে পারবে।

পার্বত্য জেলা পরিষদ

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত একটি অঞ্চল। এছাড়া মূলধারার বাঙালিরাও সেখানে বসবাস করে। এসব অঞ্চলে রয়েছে বিভিন্ন সমস্যা, যা সমাধানে প্রয়োজন বিভিন্ন পদক্ষেপ। এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন বিশেষ ধরনের ব্যবস্থা। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এ তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি বিশেষ ধরনের জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ প্রবর্তন করা হয়। পূর্বে পরিষদের মেয়াদ ছিল ৩ বছর। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৫ বছর করা হয়েছে।
গঠন-কাঠামো ও প্রকৃতি
প্রত্যেকটি জেলা পরিষদ ১ জন চেয়ারম্যান, ৩০ জন সাধারণ সদস্য এবং ৩ জন মহিলা সদস্যসহ সর্বমোট ৩৪ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। এদের সকলে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। সদস্যদের মধ্যে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় পক্ষের প্রতিনিধি থাকবে। জনসংখ্যার অনুপাত অনুযায়ী কার সংখ্যা কত তা নির্ধারিত হবে।
অপরদিকে, মহিলা আসন ব্যতীত পাহাড়িদের জন্য রিজার্ভ আসন বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মধ্যে বণ্টন হবে। ৩ জন মহিলা সদস্যের মধ্যে ২ জন হবেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এবং ১ জন হবেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাইরের বা বাঙালি। চেয়ারম্যান অবশ্যই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্য থেকে হবেন।
সদস্যদের আসনসংখ্যা দু’সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হলেও ভোটদান হবে সকলের ভিত্তিতে। সংরক্ষিত রিজার্ভ আসন ছাড়াও অন্য আসনে মহিলারা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে। একজন সরকারি কর্মকর্তা পরিষদের সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদের কার্যকাল হবে ৫ বছর।

কার্যাবলি:

পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যাবলি নিম্নরূপ :

১. স্থানীয় পুলিশ ও জেলার আইন-শৃঙ্খলা সংরক্ষণ, তত্ত্বাবধান ও উন্নতি সাধন।
২. জেলার স্থানীয় কর্তৃপক্ষসমূহের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধন ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা দান।
৩. শিক্ষার উন্নয়ন ও বিস্তার এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি।
৪. স্বাস্থ্যরক্ষা, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
৫. কৃষি ও বন উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ।
৬. পশুপালন।
৭. মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন।
৮. সমবায় আন্দোলনে উৎসাহ প্রদান।
৯. স্থানীয় শিল্প, ব্যবসা ও বাণিজ্যের প্রসার।
১০. অনাথ ও দুঃস্থদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণসহ অন্যান্য সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড।
১১. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও এর বিকাশ সাধন। ক্রিড়া ও খেলাধুলার আয়োজন ও উন্নয়ন।
১২. যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি সাধন।
১৩. পানি সরবরাহ ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন।
১৪. ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা।
১৫. পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
১৬. স্থানীয় পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন।
১৭. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর রীতিনীতি, প্রথার আলোকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বিরোধের বিচার ও মীমাংসা।

আয়ের উৎস:

পরিষদের আয়ের উৎসের মধ্যে নিম্নে উল্লিখিত বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত-
ক. স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের উপর ধার্য করের অংশ।
খ. ভূমি ও দালান কোঠার উপর হোল্ডিং কর।
গ. রাস্তা, পুল ও ফেরির উপর টোল।
ঘ. যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ফি।
ঙ. পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের উপর কর।
চ. শিল্প প্রতিষ্ঠানের উপর হোল্ডিং কর।
ছ. সামাজিক বিচারের ফি।
জ. লটারির উপর কর।
ঝ. চিত্তবিনোদনমূলক কর্মের উপর কর।
ঞ. বনজ সম্পদের উপর রয়্যালটির অংশবিশেষ।
ট. খনিজ সম্পদ অন্বেষণ বা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুমতিপত্র বা পাট্টা সূত্রে প্রাপ্ত রয়্যালটির অংশবিশেষ।
ঠ. সরকার কর্তৃক পরিষদকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আরোপিত কোনো কর ইত্যাদি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদঃ

তিনটি পার্বত্য জেলায় কার্যক্রম সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে ঐ তিন জেলাধীন সমগ্র এলাকাজুড়ে একটি আঞ্চলিক পরিষদ আছে।
গঠন:
১ জন চেয়ারম্যান, ১২ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য, ৬ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাইরের বা বাঙালি সদস্য, ২ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মহিলা সদস্য, ১ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাইরের বা বাঙালি মহিলা সদস্য এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের ৩ চেয়ারম্যানসহ সর্বমোট ২৫ জন সদস্য নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হবে।
চেয়ারম্যান অবশ্যই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর হবেন এবং তিনি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করবেন। ১২ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যের মধ্যে ৫ জন চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর, ৩ জন মারমা, ২ জন ত্রিপুরা, ১ জন মুরং ও তনচৈঙ্গা এবং ১ জন লুসাই, বোম, পাংখো, খুমী, চক ও খিয়াং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হবেন।
৬ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যের মধ্যে প্রতিটি পার্বত্য জেলা হতে ২ জন করে থাকবেন। ২ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মহিলা সদস্যের মধ্যে ১ জন চাকমা এবং অপর জন অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাইরের বা বাঙালি মহিলা সদস্য তিন পার্বত্য জেলার বাঙালি মহিলাগণের মধ্য থেকে হবেন। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণ ব্যতীত আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্য সকল সদস্য জেলা পরিষদসমূহের সদস্যগণ কর্তৃক পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হবেন।
তিন পার্বত্য জেলার চেয়ারম্যানগণ পদাধিকার বলে এর সদস্য হবেন এবং তাদের ভোটাধিকার থাকবে। একজন সরকারি কর্মকর্তা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করবেন। আঞ্চলিক পরিষদের মেয়াদ হবে ৫ বছর।
কার্যাবলি:

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের কার্যাবলি হবে নিম্নরূপ-

১. তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ এদের আওতাধীন এবং এদের উপর অর্পিত বিষয়াদির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়।
২. পৌরসভাসহ স্থানীয় পরিষদসমূহ তত্ত্বাবধান ও তাদের কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধন।
৩. পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যাবলির সার্বিক তত্ত্বাবধান।
৪. পার্বত্য জেলাসমূহের সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়।
৫. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর রীতিনীতি, প্রথা ইত্যাদি এবং সামাজিক বিচার তত্ত্বাবধান ও সমুন্নত রাখা।
৬. জাতীয় শিল্পনীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পার্বত্য অঞ্চলে ভারী শিল্প স্থাপনে লাইসেন্স প্রদান।
৭. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং এনজিওদের কার্যাবলির সমন্বয় সাধন। আয়ের উৎস প্রতি অর্থবছর শুরু হওয়ার পূর্বে পরিষদ ঐ বছরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়-সম্বলিত বিবরণী বা বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদন করবে।

নিম্নোক্ত উৎস হতে প্রাপ্ত অর্থ নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদের তহবিল গঠিত হবে-

ক. পার্বত্য জেলা পরিষদের তহবিল হতে প্রাপ্ত অর্থ, যার পরিমাণ সময় সময় সরকার নির্ধারণ করবে।
খ. পরিষদের উপর ন্যস্ত এবং তৎকর্তৃক পরিচালিত সকল সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বা মুনাফা।
গ. সরকার বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের ঋণ ও অনুদান।
ঘ. কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান।
ঙ. পরিষদের অর্থ বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা।
চ. পরিষদ কর্তৃক প্রাপ্ত যেকোনো অর্থ।
ছ. সরকারের নির্দেশে পরিষদের উপর ন্যস্ত অন্যান্য আয়ের উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ ইত্যাদি।

সংগ্রহে:
মোঃ তৌহিদুজ্জামান সোহেল
ইংরেজি বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়