৩৮তম বিসিএস লিখিত প্রস্তুতিঃ প্রবাদ ও প্রবচন (অর্থসহ)

৩৮তম বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি প্রবাদ ও প্রবচন  অর্থসহ আলোচনা করা হয়েছে । যা সকল চাকরি পরীক্ষার জন্য অনেক কাজে লাগবে । বাংলা ব্যাকরণ থেকে সকল চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় বেশকিছু প্রশ্ন আসে ।

প্রবাদ ও প্রবচন (অর্থসহ)

1) বিড়ালের ভাগ্য শিকা ছেঁড়া- ভাগ্যক্রমে প্রত্যাশিত সুযোগ লাভ।

2) বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধা- আসল ঝুঁকি নেওয়া।

3) বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ- বৃদ্ধ বয়সে শিশু বা যুবকের মতো আচরণ করা।

4) বুকে ঢেঁকির পাড় পড়া- তীব্র আতঙ্কে প্রবল বেগে হ্রদপিন্ডের স্পন্দন হওয়া।

5) বুক দশ হাত হওয়া- আনন্দিত হওয়া বা অহঙ্কৃত হওয়া।

6) বুকে পিঠ করে মানুষ করা- অত্যন্ত আদর যত্ন করে পালন করা।

7) বুকে বসে দাড়ি উপড়ানো- আশ্রয়দাতা বা প্রতিপালকের অনিষ্ট সাধন করা।

8) বুদ্ধির গোঁড়ায় ধোঁয়া দেওয়া -চিন্তা করতে বসা।

9) মাথার উপরে শকুন উড়া- অতিশয় বিপদ সন্নিকটে।

10) মাথার ঘায়ে কুকুর পাগল-বিষম বিপদে পড়ে পাগল হওয়া।

11) ঘাড়ে দুইটি মাথা থাকা-দুঃসাহসী।

12) ঢেঁকির শব্দ বড়-ভিতরে যার কিছুই নেই তার বাজে বেশি।

13) বামন গেল ঘর তো লাঙ্গল তুলে ধর-কর্মচারীদের উপর দৃষ্টি না রাখলে তারা কাজ করে না।

14) বামন শুদ্দুর তফাৎ- আকাশ পাতাল পার্থক্য।

15) বামনের গরু- যে ব্যক্তি বা বস্তুর নিকট অল্প ব্যয়ে প্রচুর কাজ পাওয়া যায়।

16) বাবু বাছা করা-পুত্রবৎ সস্নেহে বাক্য বলা।

17) বাবু বাছা বলা-স্নেহ ও আদর করা।

18) কূলে রাখা কি শ্যাম রাখা-উভয় সঙ্কটে পড়া।

19) বাতাসের সঙ্গে লড়াই করা- বিনা কারণে ঝগড়া করা।

20) হাড় ভাজা ভাজা হওয়া-জ্বালাতন হওয়া।

21) গাছে তুলে দিয়ে মই কেড়ে নেওয়া-উৎসাহ দিয়ে কর্মে প্রবৃত্ত করে অসহায় অবস্থায় সরে দাঁড়ানো।

22) পাকা ধানে মই দেওয়া-লাভের মুখে সমূহ ক্ষতি করা।

23) মাথা ঠোকাঠুকি হওয়া-অপ্রত্যাশিতভাবে দেখা দেওয়া।

24) মুখ শুকিয়ে আমসি হওয়া-ভয় ব্যাধি উদ্বেগ ইত্যাদি হেতু মুখের রুগ্ন অবস্থা।

25) যাহা বাহান্ন তাহাই তিপ্পান্ন-একটু ক্ষতির ভয়ে পশ্চাৎপদ না হওয়া।

26) গদাই লস্করই চাল-অতি-মন্থর গতি।

27) লেজে গোবরে ল্যাজে গোবরে-অক্ষমতার জন্য বিপদযস্ত অবস্থায় উপনীত।

28) শিব গড়তে বাঁদর গড়া-খুব ভালো কিছু করতে গিয়ে খারাপ কিছু করা।

29) সব শিয়ালেরা এক রা-সমদলবুক্ত সকল ব্যক্তির একই রকম মত।

30) শুঁড়ির সাক্ষী মাতাল-অসৎ ব্যক্তিকে অসৎ ব্যক্তি সমর্থন করে।

31) শুকনো কথায় চিড়ে ভিজানো-শুধু মুখের কথায় কাজ হয়না।

32) শুকরের পাল ধোয়ানো-অনভীস্পিত ও গুণহীন প্রচুর সন্তান।

33) ষাঁড়ের গোবর ষাঁড়ের নাদ-অকর্মণ্য লোক,ষাঁড়ের গোবর যেমন হিন্দু ধর্মের ধর্মকার্যে ব্যবহার করা হয় না।

34) গোকুলের ষাঁড়- বৃন্দাবনের মুক্ত ষাঁড়ের মত স্বেচ্ছা-বিহারী দায়িত্বহীন ব্যক্তি।

35) ষেটের বাছা,ষেটের কোলের বাছা-যষ্ঠীদেবীর অনুগ্রহপ্রাপ্ত সন্তান।

36) ষোল আনা বাজিয়ে নেওয়া-সর্বদিক থেকে বিচার করে নেওয়া।

37) অনেক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট-বহু কর্তায় অত্যন্ত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।

38) গণ্ডূষ জলে সফরীর ফরফরানি-অতি অল্প পানিতে পুঁঠি মাছের ফর ফর করে ঘোরা।

39) ধরাকে সরা জ্ঞান করা-মৃৎপাত্র বা সরার ন্যায় ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ মনে করা।

40) সস্তার কিস্তি মাত-পরিশ্রমে কোন বিষয়ে সাফল্য লাভ।

41) সাত চড়ে রা করে না/ বেরোয় না-সমস্ত অত্যাচার মুখ বুঝে সহ্য করে।

42) সাত নকলে আসল খাস্তা-বার বার নকল করতে করতে সূচনার যার নকল করা হয়েছে তা বিকৃত হওয়া।

43) সাত পুরুষে না শোনা- বংশানুক্রমে না শুনা।

44) সাতেও নেই পাঁচেও নেই-সংশ্রবশূণ্য।

45) সাপটা ধরে কেনা-একদামে সমস্ত জিনিস কেনা।

46) সাপের হাঁচি বেদেয় চিনে-অভিজ্ঞ লোকের লক্ষণ দেখে চিনতে ভুল করে না।

47) সাপের হাঁড়ি-অতিশয় কোপনস্বভাবা নারী।

48) সোনার কাঠি রুপোর কাঠি-জীবনকাঠি ও মরণকাঠি।

49) সোনার দোয়াত কলম হওয়া-বিদ্বান ও বিত্তবান হওয়া।

50) স্বভাব যায় না মলে ইল্লত যায় না ধুলে- পানি দ্বারা ধুলে ও নোংরামি দূর করা যেরূপ অসম্ভব।

51) ইস্তক জুতা সেলাই নাগাদ চণ্ডী পাঠ –সংসারের চোট বড় সবধরনের কাজ।

52) ভোজনং যত্র তত্র শয়নং হট্টমন্দিরে-যেখানে সেখানে আহার এবং হাটের চলার নিচে নিদ্রা।

53) হাটের দুয়ারে কপাট-অসম্ভব ব্যাপার।

54) হাড়ে বাতাস লাগা-স্বস্তি-বোধ করা।

55) হাড়ে দূর্বা গজানো-বিপল প্রতীক্ষা।

56) হাতে পাঁজি মঙ্গলবার-মীমাংসার নির্ভরযোগ্য উপায় থাকতে তর্ক বিতর্ক করা।

57) হাতির ভোগ মুখে দূর্বা ঘাস-যেখানে প্রভূত ভোজের প্রয়োজন সেখানে অল্প খাদ্যর আয়োজন।

58) অন্ধের নড়ি, অন্ধের যষ্টি-অসহায়ের সহায়।

59) বজ্র আঁটুনি ফসকা গোড়া-কাজের আয়োজনের সময় খুব কড়াকড়ি কিন্তু কাজের সময় শিথিলতা।

60) আঁত পাওয়া বার- মনের অভিপ্রায় জানা মুশকিল।

61) আধার ঘরের বাতি-আঁধার ঘরের মানিক।

62) আঁতুড়ে খোকা আঁতুড়ে ছেলে- সদ্যজাত শিশু।

63) এঁড়ে তেল দেওয়া-চাটুবাক্য তোষামোদ করা।

64) এক গ্লাসের ইয়ার এক সানকির ইয়ার-অন্তরঙ্গ বন্ধু।

65) কড়ি গোনা, কড়ি কাঠ গোনা-বেকার অবস্থা যাপন।

66) ঘোড়া ডিঙ্গিয়ে ঘাস খাওয়া-মুরব্বিকে অতিক্রম বা অগাহ্য করে কার্যোদ্বায়ের চেষ্টা করা।

67) ঘোড়া দেখে খোঁড়া হওয়া-কাজ করার লোক দেখে আলস্য দেখানো।

68) ঘোড়ায় জিন দিয়ে আসা-অত্যন্ত ব্যতিব্যস্ত ভাব,তিলেক বিলম্বে অস্থিরতার ভাব।

69) চোদ্দ চাকার রথ দেখানো-মুশকিলে ফেলা।

70) চোর কুঠরি,চোর কুঠুরি-ঘরের ভিতরের চোট গুপ্ত ঘর।

71) চোর মরে,সাত ঘর মজায়ে-চোর ধরা পড়লে অনেক মকদ্দমায় জড়ায়।

72) বাড়িতে ছুঁচোর কেত্তন,বাইরে কোঁচার পত্তন-বাড়িতে চরম দরিদ্র অবস্থা বাইরে বড়লোকি প্রদর্শন।

73) ছুঁচোর মেরে হাত গন্ধ করা- তুচ্ছ ব্যক্তিকে শাস্তি দিয়ে অখ্যাতি লাভ করা।

74) ধারে কাটা আর ভারে কাটা-স্বাভাবিক ক্ষমতায় কাজ করা।

75) যার ধন তার নয়,নেপোয় মারে দই-পরিশ্রমী ব্যক্তিকে বঞ্চনা করে ধূর্ত লোকের ফল প্রাপ্তি।

76) আপনা মাংসে হরিনা বৈরি। – হরিনের শত্রু তার মাংশ।

Collected