বিসিএস প্রিলিমিনারি MCQ পরীক্ষায় উত্তর করার ধরণ নিয়ে কিছু কথা

বিসিএস প্রিলিমিনারি MCQ পরীক্ষায় উত্তর করার ধরণ নিয়ে কিছু কথা
By— aryan ahmed
assistant commissioner of taxes

ভালো MCQ পরীক্ষা দেয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে শুরুতে শুধুমাত্র পারার মত সহজ প্রশ্নগুলো ঝটপট উত্তর করে ফেলা । যেকোনো চাকুরীর পরীক্ষার জন্য যখন স্টুডেন্টরা প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে তখন অনেকেই খুঁজে বেড়ায় কোন প্রশ্নে ব্যাতিক্রম কি কি আছে এবং সেগুলোর পেছনে ছুটতে থাকে । এটা মস্ত ভুল । লিখিত ,ভাইভা কিংবা M.C.Q.যেকোনো প্রশ্নে কিছু ব্যাতিক্রম প্রশ্ন থাকতেই পারে বা আসতেই পারে, তার মানে এই নয় যে সেগুলো পারতে হবে । ওগুলো just avoid করে যান, ব্যাতিক্রমের কোন সীমা নেই । একবার এক রকম প্রশ্ন আসবে আপনি সেটা স্টাডি করে যাবেন এবং গিয়ে দেখবেন আরেকটি এসেছে , uncommon টাইপ প্রশ্ন কমন ফেলার চেষ্টা করাটা বোকামি । যেকোনো MCQ টাইপ প্রশ্নে সহজ প্রশ্ন যতগুলো বা পারার মত যতগুলো প্রশ্ন থাকে সেটা ভালমতো উত্তর করে আসতে পারাটা হচ্ছে credit এর বিষয় । সহজভাবে সব চিন্তা করুন, পরীক্ষা হলে নিজেকে easy and cool রাখার চেষ্টা করুন । সবসময় যেকোনো পরীক্ষা দিয়ে এসে একটু ভেবে দেখবেন যে আপনি যা স্টাডি করেছিলেন তার কতটুকু কাজে লাগাতে পেরেছেন ??? কে কি স্টাডি করেছে, কার পড়াটা কতদূর , কে কি exceptional কিছু স্টাডি করলো, কে কয় ঘণ্টা স্টাডি করছে, এই কে শব্দগুলোকে বাদ দেয়ার চেষ্টা করুন । দরকার নেই কারো সাথে তুলনা করার, নিজের মত করে ভালোভাবে একটা প্রস্তুতি নিন । আর ধরেই রাখবেন যেকোনো পরীক্ষায় আপনি ১০০% perform করতে পারবেন না, তাহলেই দেখবেন মাথা থেকে load অনেকটা কমে যাবে । এতদিন যেসব স্টাডি করেছেন এখন সেগুলো ঝালাই করার সময় । যতটুকু পারুন খুব বেশি জটিলভাবে স্টাডি না করে জাস্ট সহজভাবে পড়তে থাকুন । একটি কথা সবসময় মনে রাখবেন পরীক্ষার আগের রাতে আপনার দরকার ভালো ঘুম , তাহলে ঠাণ্ডা মাথায় পরীক্ষা দিতে পারবেন । যেভাবে আপনি MCQ পরীক্ষা দিতে পারেন —

১ — শুরুতে উত্তরপত্রে ঠাণ্ডা মাথায় সব বৃত্ত পূরণ করবেন । আর ঘণ্টা পরার পর তাড়াহুড়ো করে আগেই উত্তর শুরু করতে যাবেন না । আগে এক নজরে প্রশ্নপত্রটি ভালমতো শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত একটু উল্টিয়ে দেখুন । দুটো বিষয় দেখা যাবে পুরোটা ছাপা আছে কিনা এবং প্রশ্নের ধরণ কেমন হয়েছে ।

২ — শুরুতে আপনার উদ্দেশ্য থাকবে একটানা ১ থেকে ২০০ পর্যন্ত শুধু সেসব প্রশ্নই উত্তর করা যেগুলো এক চান্সে পারবেন । যেসব প্রশ্নে সামান্য confusion বা পারছেন না সেগুলো টিক চিহ্ন দিয়ে বাদ দিয়ে রাখবেন, পরে সময় পেলে সেগুলো নিয়ে ভাববেন ।

৩ — কে কেমন পরীক্ষা দিচ্ছে, কে কি পারছে , কে কতগুলো উত্তর করলো , কত পেলে চান্স হবে, পরীক্ষা হলে এসব নিয়ে কখনোই ভাববেন না বা কাউকে জিজ্ঞেসও করবেন না । আপনি পরীক্ষা দিতে যাবেন , পরীক্ষা নিয়ে গবেষণা করতে না , তাইনা ?

৪– অনেককেই দেখেছি ৪-৫ টি বা আরও বেশি কঠিন প্রশ্ন না পারলেই পরীক্ষার হলে চিন্তা শুরু করে যে সে একাই পারছেনা আর সবাই বুঝি উত্তর করে উড়িয়ে ফেলছে , বিষয়টা তো আর এমন না যে আপনি সাধারণ মানুষ আর বাকিরা সুপার মানুষ ( superman ) , be cool , কয়েকটি প্রশ্ন তো কঠিন হতেই পারে , ওগুলো বাদ দিন । যেগুলো আপনি পারেন সেগুলো নিয়ে মাথা ঘামানোর চেষ্টা করুন । পরীক্ষার হলে না পারার মত প্রশ্ন নিয়ে মাথা ঘাঁটাঘাঁটি করলে সময়ও নষ্ট হয় আবার মাথাও গরম হয়ে যায় ।

৫– গনিত পরে উত্তর করতে পারেন , একদম ছোট math গুলো ছাড়া । কোন math সমাধান করতে গিয়ে গুলিয়ে ফেললে তার পরের প্রশ্নে চলে যাবেন । তাড়াহুড়ো করবেন না । খেয়াল করে দেখবেন যেসব প্রশ্নের উত্তর আপনি পারবেন সেগুলো উত্তর করতে ১৫ সেকেন্ডও লাগেনা । অনেক সময় থাকবে আপনার হাতে । আপনি এই সময়ের সঠিক ব্যবহারের চেষ্টা করবেন ।
৬– চেষ্টা করবেন উত্তরপত্রে উত্তর নাম্বার ভালমতো দেখে উত্তর করার । এমন যেন না হয় ৪৫ নাম্বার পূরণ করতে গিয়ে ৪৬ নাম্বার পূরণ করে ফেলেছেন , এটাও অনেকের হয় । এই অল্প সময়ে মোটামুটি যতটুকু সম্ভব ভালমতো স্টাডি করে যাওয়ার চেষ্টা করুন । প্রতিটি বিষয়েই সমান গুরুত্ব দিন । এখন অযথা সময় নষ্ট করবেন না । সব প্রশ্ন কমন পড়বে না এটা মনে রাখবেন , আপনার কাজ স্টাডি করে পরীক্ষা হলে যাওয়া, কি কমন পড়বে কি পড়বে না এসব ভাববেন না, আপনি আপনার স্টাডি চালিয়ে যান । আপনি যা স্টাডি করে যাবেন তার থেকেই অনেক কিছুই আসবে আর সেটুকুই কাজে লাগাতে পারলে আপনি সফল হবেনই , try your best..ভালো থাকবেন সবাই , good luck guys .

বি.দ্র.– লিখায় অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ভুল হলে ক্ষমাপ্রার্থী ।