সমার্থক শব্দ মনে রাখার নিঞ্জা টেকনিক

0
2
সমার্থক শব্দ মনে রাখার নিঞ্জা টেকনিক
সমার্থক শব্দ মনে রাখার নিঞ্জা টেকনিক

আজ আপনারা জানবেন বাংলা সমার্থক শব্দ মনে রাখার কৌশল । ছন্দ আকারে গুরুত্বপূর্ন সমার্থক শব্দ মুখস্ত করে নিন। bengali samarthak shobdo অংশ হতে  বিসিএস, ব্যাংক, নিবন্ধন ও প্রাইমারী পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে । নিচে সমার্থক শব্দ শেখার কৌশল দেওয়া হল –

সমার্থক শব্দ মনে রাখার নিঞ্জা টেকনিক

বাংলা সমার্থক শব্দ শেখার কৌশল/পারিভাষিক শব্দ মনে রাখার সহজ কৌশল জেনে প্রশ্নের উত্তর করতে পারবেন । bangla somarthok shobdo pdf আকারে ফাইল ডাউনলোড করতে পারেন।

সমার্থক শব্দ মনে রাখার নিঞ্জা টেকনিক
সমার্থক শব্দ মনে রাখার নিঞ্জা টেকনিক

ছন্দে ছন্দে সমার্থক শব্দ মনে রাখার কৌশল

আমরা জানি পৃথিবীর পেরেক বলা হয় পাহাড়কে। পাহাড় পৃথিবীর ভারসাম্যতা ধরে রাখে। মজার ব্যাপার হচ্ছে পৃথিবীর সমার্থক শব্দের সাথে ‘ধর’ যোগ করে দিলেই তা পাহাড়ের সমার্থক শব্দ হয়ে যাবে। যেমন:

পৃথিবী – ভূ, অবনী, ধরণী, ধরা, মহী, মেদিনী, ক্ষিতি, পৃথ্বী । পাহাড় – ভূধর, অবনীধর, ধরণীধর, ধরাধর, মহীধর, মেদিনীধর, ক্ষিতিধর, পৃথ্বীধর ।

আরও পড়ুনঃ বাংলা সমার্থক শব্দ ভান্ডার (পার্ট-১), Bangla somarthok shobdo Part 2, এবং সমার্থক শব্দ মনে রাখার কৌশল

এরকম সূর্যের আলোয় পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যায়, ঘনীভূত হয় মেঘে। অর্থাৎ মেঘ পানি ধরে রাখে এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে পানির সমার্থক শব্দের সাথে ‘ধর’ যোগ করে দিলেই তা মেঘের সমার্থক শব্দ হয়ে যাবে। যেমন: পানি – জল, নীর, অম্বু, বারি, পয়, তোয় । মেঘ – জলধর, নীরধর, অম্বুধর, বারিধর, পয়ধর, তোয়ধর

আবার ‘নিধি’ শব্দের অনেকগুলো অর্থের মধ্যে একটি হচ্ছে আধার বা স্থান। তাহলে ‘পানি’র সমার্থক শব্দের সাথে ‘নিধি’ যোগ করে দিলেই তা পানির মূল আধার বা স্থান সমুদ্রকে বুঝাবে। যেমন: পানি – জল, নীর, অম্বু, বারি, পয়, তোয় । সমুদ্র – জলনিধি, নীরনিধি, অম্বুনিধি, বারিনিধি, পয়নিধি, তোয়নিধি ।

আকাশের সমার্থক শব্দ: গগন, শুন্য, আসমান, অন্তরীক্ষ, নভঃ, অনন্ত, নভোমণ্ডল, ব্যোম, দ্যু।

কিছু confusing সমার্থক শব্দ:

ছন্দে ছন্দে সমার্থক শব্দ list গুলো এক নজরে পড়ে নিন। অতি গুরুত্বপূর্ণ সমার্থক শব্দ লেখা ও pdf আগে প্রকাশ করা হলো।

১. ‘খ’ শব্দের সমার্থক শব্দ হলো ‘আকাশ’; আর ‘খগ’ শব্দের সমার্থক শব্দ হলো ‘পাখি’। ২. ‘পবন’ শব্দের অর্থ হলো ‘বাতাস’; আর ‘পাবন’ শব্দের অর্থ হলো ‘আগুন’।

৩. ‘পরভৃৎ’ শব্দের অর্থ হলো ‘কাক’; আর ‘পরভৃত’ শব্দের অর্থ হলো ‘কোকিল’। ৪. ‘কুমুদ’ শব্দের অর্থ হলো ‘পদ্ম’, ‘কুমুদিনী’ শব্দের অর্থ হলো ‘পদ্মের দল’; আর ‘কুমুদনাথ’ শব্দের অর্থ হলো ‘চন্দ্র’।

৫. ‘নগ’ শব্দের অর্থ হলো ‘পর্বত’; আর ‘নাগ’ শব্দের অর্থ হলো ‘সাপ’। ৬. ‘পাদপ’ শব্দের অর্থ ‘যে পা দিয়ে পান করে’, ‘বৃক্ষ’; আর ‘পাদ্য’ শব্দের অর্থ ‘পা ধোয়ার জল’।

৭. ‘দ্বীপ’ শব্দের অর্থ হলো ‘চারদিকে জল-বেষ্টিত ভূভাগ’; ‘দীপ’ শব্দের অর্থ হলো ‘প্রদীপ’/’বাতি’; আর ‘দ্বিপ’ শব্দের অর্থ হলো ‘হাতি’।

৮. ‘পুষ্কর’ শব্দের অর্থ হলো ‘পদ্ম’; আর ‘পুষ্করিণী’ শব্দের অর্থ হলো ‘পুকুর’। ৯. ‘আপন’ শব্দের অর্থ হলো ‘নিজ’; আর ‘আপণ’ শব্দের অর্থ হলো ‘দোকান’।

১০. ‘মহী’, ‘ক্ষিতি’ শব্দগুলোর অর্থ হলো ‘পৃথিবী’; আর ‘মহীরুহ’, ‘ক্ষিতিরুহ’ শব্দগুলোর অর্থ হলো ‘বৃক্ষ’।

১১. ‘জীমূত’ শব্দটি দিয়ে ‘মেঘ’ ও ‘পাহাড়’ দুটোই বুঝায়। ১২. ‘সরোবর’ শব্দটি দিয়ে ‘দীঘি’ ও ‘পদ্ম’ দুটোই বুঝায়; আর ‘সরোদ’ শব্দের অর্থ ‘এক প্রকার তারের বাদ্যযন্ত্র’। ১৩. ‘অটবি’ শব্দটি দিয়ে ‘বন’ ও ‘বৃক্ষ’ দুটোই বুঝায়।

১৪. ‘কুঞ্জ’ শব্দের অর্থ হলো ‘বন’; ‘নিকুঞ্জ’ শব্দের অর্থ হলো ‘বাগান’; আর ‘কুঞ্জর’ শব্দের অর্থ হলো ‘হাতি’।

১৫. ‘মৃগ’ শব্দের অর্থ হলো ‘হরিণ’; আর ‘শাখামৃগ’ শব্দের অর্থ হলো ‘বানর’। ১৬. ‘পানি’ শব্দের অর্থ ‘জল’; আর ‘পাণি’ শব্দের অর্থ ‘হাত’।

১৭. ‘শিখণ্ডী’ শব্দের অর্থ হলো ‘ময়ূর’; আর ‘শিখরী’ শব্দের অর্থ হলো ‘বৃক্ষ’, ‘পাহাড়’। ‘শিখী’ শব্দের অর্থ হলো ‘ময়ূর’; আর ‘শাখী’ শব্দের অর্থ হলো ‘বৃক্ষ’।

১৮. ‘কান্তা’ শব্দের অর্থ হলো ‘নারী’; আর ‘কান্তার’ শব্দের অর্থ হলো ‘বন’। ১৯. ‘আষাঢ়’ হলো একটি মাসের নাম; আর ‘আসার’ হলো ‘জলকণা’/’নিদর্শন’/’চিহ্ন’।

২০. ‘ভূ’, ‘মেদিনী’, ‘মহী’, ‘ক্ষিতি’ শব্দগুলোর অর্থ হলো ‘পৃথিবী’; আর শব্দগুলোর সাথে যখন ‘ধর’ যুক্ত হয় (যেমন- ভূধর, মেদিনীধর, মহীধর, ক্ষিতিধর) তখন শব্দগুলোর অর্থ হয় ‘পাহাড়’; আর যখন শব্দগুলোর সাথে ‘পাল’/’নাথ’/’পতি’ যুক্ত হয় (যেমন- ভূপাল, ভূপতি, মহীপাল, মহীনাথ, ক্ষিতিপাল, ক্ষিতিনাথ, ক্ষিতিপতি) তখন শব্দগুলোর অর্থ হয় ‘রাজা’।

২১. ‘প্রভা’, ‘কিরণ’, ‘অংশু’, ‘বিভা’, ‘ময়ূখ’ শব্দগুলোর অর্থ হলো ‘রশ্মি’/’আলো’;

আর শব্দগুলোর সাথে যখন ‘কর’/’মালী’ যুক্ত হয় (যেমন- প্রভাকর, কিরণমালী, অংশুমালী, বিভাকর, ময়ূখমালী) তখন শব্দগুলোর অর্থ হয় ‘সূর্য’।

২২. আমরা অনেক সময় ‘সমুদ্র’ এবং ‘মেঘ’-এর প্রতিশব্দগুলো গুলিয়ে ফেলি কারণ এদের প্রতিশব্দগুলো প্রায় কাছাকাছি ধরণের। তাই আমরা সহজে এভাবে মনে রাখতে পারি- যে শব্দগুলোর শেষে ‘ধি’ থাকবে সেগুলো সমুদ্রের প্রতিশব্দ এবং যে শব্দগুলোর শেষে ‘দ’ বা ‘ধর’ থাকবে সেগুলো মেঘের প্রতিশব্দ।

যেমন- সমুদ্রের প্রতিশব্দ বারিধি, জলধি, জলনিধি, অম্বুধি, সরোধি, উদধি, পয়োনিধি, তোয়ধি, বারিনিধি ইত্যাদি। লক্ষ করুন সবগুলো শব্দের শেষে ‘ধি’ আছে।

আবার মেঘের প্রতিশব্দ বারিদ, জলদ, অম্বুদ, তোয়দ, জলধর, পয়োধর, তোয়ধর, নীরদ, পয়োদ ইত্যাদি। লক্ষ করুন সবগুলো শব্দের শেষে ‘দ’ বা ‘ধর’ আছে।

ব্যতিক্রম: মোটামুটি একটি ব্যতিক্রমই রয়েছে সেটি হলো ‘জলধর’। এই শব্দটি দ্বারা ‘সমুদ্র’ এবং ‘মেঘ’ দুটোকেই বুঝায়।

বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সমার্থক শব্দ list গুলো থেকে প্রশ্ন আসে। তাই শেয়ার দিয়ে নিজের টাইমলাইনে রেখে দিন। আর এরকম মজার মজার সহজ টেকনিকে বাংলা শিখতে চাকরি বিডি ওয়েবসাইট এক্টিভ থাকুন। ক্রডিট: Shawon’s Bangla। ধন্যবাদ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here