২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস বলা হয কেন? ভাইবা প্রশ্ন

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কে গণহত্যা দিবস পালন করা হয়। গণহত্যা শব্দটি ইংরেজির প্রতিশব্দ জেনোসাইড (Genocide)। জাতিসংঘের তথ্যমতে গণহত্যা বলতে বুঝায় যে, যদি কোন জাতি বা ধর্মীয় সম্প্রদায় বা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে শেষ করে দেওয়া বুঝায়।
পাকিস্তান হানাদার বাহিনী পূর্বপরিকল্পনা করে ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু করে। ১৯৭১ সালের এই পরিকল্পনার নাম অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight)। এ জন্য ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস বলা হয।

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস বলা কারণ

১৯৪৮ সালে গৃহীত জাতিসংঘের কনভেনশন অন দ্য প্রিভেনশন অ্যান্ড পানিশমেন্ট অব দ্য ক্রাইম অব জেনোসাইডে গণহত্যার পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ আছে। গণহত্যার বৈশিষ্ট্য সমুহ –

  • ১। কোনো গোষ্ঠীর মানুষকে হত্যা,
  • ২। তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতিসাধন,
  • ৩।জীবনমানের প্রতি আঘাত ও শারীরিক ক্ষতিসাধন,
  • ৪।জন্মদান বাধাগ্রস্ত করা এবং
  • ৫। শিশুদের অন্য গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া

এই পাঁচটি উপাদানের কোনো একটি থাকলেই কোনো ঘটনা গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত হবে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তুরিন আফরোজ প্রথম আলোকে বলেন, শেষটি ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আর সব ধরনের অপরাধই সংঘটিত হয়েছে। তাই একে গণহত্যা না বলার কোনো কারণ নেই।
এসব বৈশিষ্ট্য থাকার পর বাংলাদেশের গণহত্যা স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনীহাকে দায়ী করেন আর্জেন্টিনার আইনজীবী এবং সে দেশের গণহত্যার বিচারের আন্দোলনের কর্মী ইরেন ভিক্টোরিয়া মাসামিনো।